Wednesday, April 29, 2020

আমার যে দিন...। স্মৃতিচারণ

Image may contain: 4 people, including Dilip Kumar Sachdeva, people standing, tree, plant, flower, house, sky, outdoor and nature

Image may contain: 4 people, including Swarup Ratan Ghosh and Pallab Kumar Chatterjee, people standing, shoes and outdoor

আমার যে দিন...।


বন্ধুরা অনেকে নিজের বাগানের ফুল-ফল-গাছের ছবি পোস্ট করে, দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়, মুগ্ধ হয়ে দেখে যাই শুধু। এখানে মুম্বাইয়ের একচিলতে ফ্ল্যাটবাড়িতে টবে কিছু শৌখিন গাছপালা পুঁতে ফুল-টুল ফোটান বটে আমার গিন্নি, ভাল লাগে, কিন্তু নস্টালজিক মন ছেলেবেলার কথা মনে করে তেমন নাড়া খায় না তা দেখে।
আমার ছেলেবেলা কেটেছে বিহারের (এখন ঝাড়খণ্ড) দামোদর-তীরের ছোট্ট এক আধা-শহরে। এ এক এমন জায়গা যে গুগল ম্যাপে চেষ্টা করেও বাড়ি-ঘর খুঁজে পাবে না সেখানে, মনে হবে যেন গভীর জঙ্গল। হবে না কেন? বেশির ভাগ বাড়িই একতলা নয় দোতলা, অবশ্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কয়েকটা তিনতলা হোস্টেল বাদে। ছিল গোটা দুই মস্ত কারখানা- সার আর সিমেন্টের, দ্বিতীয়টা আজও আছে, সারের কারখানা সরকার, শিল্পপতি আর ইউনিয়নের মিলিত চক্রান্তে বন্ধ হয়ে গেছে সতের বছর আগে। কিন্তু কলোনি ছিল চোখ জুড়োন, চৌকো রাস্তা, প্ল্যানমাফিক সাজানো কোয়ার্টার্স আর বাংলোগুলো, আর ছিল সবুজের সমারোহ রাস্তার দুপাশ, বাড়ির বাগান জুড়ে। অজস্র মহীরূহের মাঝে চোখে আর নাকে পড়ার মত ছিল পলাশ-কৃষ্ণচূড়া-রাধাচূড়া-ছাতিম আর কদম। বসন্তে চারপাশ রঙিন হয়ে উঠত আর বর্ষার মুখে কদমের ডালে মেলা লাগত হলুদ-গোলাপি ফুলের। বর্ষা শেষ হতে না হতেই পুজো আসার অগ্রিম সংবাদ জানা যেত থোকায় থোকায় ফুটে থাকা সপ্তপর্ণী (ছাতিম) ফুলের তীব্র গন্ধে। আমাদের স্কুল ছিল বাসা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। বাস ছিল, কিন্তু এই ফুলগুলোর লোভে প্রায়ই বাস ছেড়ে দিয়ে সবান্ধবে হাঁটা দিতাম, বৃষ্টির প্রথম ধারায় স্নান করাটা ছিল উপরি পাওনা। কদমের ফুল গাছে চেপে পাড়ার ক্ষমতা হত না, তবে যে পরিমাণ পড়ে থাকত গাছের তলায় তলায়, সেগুলোই কুড়িয়ে জমাতাম, অকারণেই। তখন আমাদের প্রথম কদম ফুল দান করার কেউ ছিল না, হয়ত সে বয়সও হয়নি, তাই নিজের ফুল নিজেকেই কুড়োতে হত। অবশ্য দু-চারটে মেয়েও যে থাকত না সে দলে তা নয়, তারই কোন একটিকে দেখে হয়ত জসীমউদ্দীন লিখেছিলেন-
"কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্‌ঝুম নিরালায়,
ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়!
বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে হেসে কুটি কুটি হয়,
সে হাসি তাহার অধর নিঙাড়ি লুটাইছে বনময়।"
একেবারে নিখুঁত ছবি, যদিও উনি এ শহরে কোনদিন এসেছেন বলে শুনিনি।
তবে আসল মজাটা পেলাম হাইস্কুলে যাবার পর। সেখানে দুটো বিল্ডিংএর মাঝে ছিল একটা বিশাল মহুয়া গাছ। আমাদিগকে তখন একটা পেপার হিন্দি আর একটা বাংলা পড়তে হত। হিন্দিভাষী ছেলেদের পড়তে হত দুটো হিন্দির পেপার। তা ওদের হিন্দি-২ এর সময় আমাদের বাংলা থাকত। কিন্তু ক্লাসরুম অত না থাকায় হরিদাস স্যার বা দাস স্যার আমাদের কয়েকজন বঙ্গসন্তানদের নিয়ে পড়াতে বসতেন বাইরে গাছতলায়, একেবারে শান্তিনিকেতনী স্টাইলে। কিন্তু পড়ব কী? 'সেদিন চৈত্রমাস'। সর্বনাশ হওয়ার বা ঘটানোর বয়স আমাদের না হলেও একটা জিনিষ দস্তুরমত টের পাচ্ছি সেটা সবজে কমলা রঙের মহুয়ার ফুল- প্রচুর পড়ে আছে গাছের তলায়। কী মিষ্টি গন্ধ- ঠিক যেন গোবিন্দভোগ চালের পায়েস, ভুর ভুর করছে চারপাশ। বাংলা পড়তে পড়তে অন্যমনস্কভাবে একটা মুখে তুলে নিতাম, এ হে হে- কিছুটা টক, আর বেশ তিতকুটে। এর চেয়ে বরং পাকা নিমফল ভাল! তখনও কি জানতাম এর মাদকতার কথা যেটা না চেখেই হয়ত কবিগুরু এন্তার কথা লিখে গেছেন-
"চৈত্রদিনে তপ্ত বেলা তৃণ-আচঁল পেতে
শূণ্যতলে গন্ধভেলা ভাসায় বাতাসেতে-
কপোত ডাকে মধুকশাখে বিজন বেদনায়।।"
(মধুক মানে যে মহুয়া সেটা তখন জানতাম না)
ঠিক এই গন্ধে ভরা দুপুরগুলোকে আজও মিস করি। ইতিহাস রাখি নি, 'তবু উড়েছিনু, এই মোর উল্লাস'। বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপে কারখানা আবার চালু হতে চলেছে- সেই ছেলেবেলার বন্ধ স্কুলে আজ সেই কন্সট্রাকশন শ্রমিকদের ডেরা, সেই স্কুল, সেই শহর আর আমার নয়। তবু সুযোগ পেলেই এখনকার খাঁচার পাখি তখনকার বনে-জঙ্গলে ছুটে যাই।
আজ করোনাভাইরাসের আতঙ্কে গৃহবন্দী হয়ে এইসব কথাই চিন্তা করছিলাম। তবে না, কদমফুলের সঙ্গে নভেল ভাইরাসের চেহারার মিলটা সেই মুহূর্তে মাথায় আসে নি, এটা নিছক একটা সমাপতন!
মুম্বাই, ১৪২৭।
সঙ্গে ফটো- বুড়োবয়সে আবার দেখতে গেছি বাল্যের শহরকে, সবান্ধবে

Tuesday, April 28, 2020

টু ফর জয়।। অণুগল্প

টু ফর জয়!
(অণুগল্প)
-এই যে, তুই এখানে! আমি খুঁজে খুঁজে হয়রান।
- কেন রে বাবা, সাতসকালে কিসের কাজ পড়ল? এক মিনিট, ফড়িংটাকে তাক করেছি, নড়াচড়া করলেই ফস্কে যাবে।
- এই রাক্কস! সকাল সকাল এত খিদে কিসের? ফড়িংগুলো দিব্যি খেলছে, কিছুক্ষণ আনন্দে খেলতে দে না বাপু।
- তা কোথায় যেতে হবে? খাবার পাওয়া যাবে?
- হ্যাঁ রে পেটুক! তিন্নিদের বারান্দায়। অনেক গম ছড়িয়ে রেখে মেয়েটা চোখ বুজে দুই শালিক, দুই শালিক করে যাচ্ছে।
- সে কি রে, ফাঁদ নয় তো? আরে আমরা তো আর শালিক নই!
- আমরা শালিক না ময়না সে আর তিন্নি কি বুঝছে? ও দুটো পাখি দেখতে পেলেই খুশি। আজকে ওর স্কুলে পরীক্ষা যে!
- এই, তুই মানুষের বাচ্চাদের এত খবর কোথায় পাস রে? দিনরাত গমের লোভে হাউসিং সোসাইটিগুলোতে ঘোরাঘুরি করিস। কোন দিন জালে ধরা পড়বি সেদিন বুঝবি! খাঁচার মধ্যে রাধেকৃষ্ণ গেয়েই জীবন যাবে। চল, দেখি কোথায় তোর তিন্নি।
দুটি ময়না উড়ে গিয়ে এসে বসল তিন্নিদের ব্যালকনির ধারিতে।
তিন্নি ব্যাগ হাতে চোখ বুজে অপেক্ষা করছিল। ওর মা পাখিদুটোকে দেখে ওর মাথায় একটা টোকা মারতেই ও চোখ খুলল। 'টু ফর জয়! টু ফর জয়!' হাততালি দিয়ে নেচে উঠল তিন্নি।
ময়না দুটো তখন একমনে গম খুঁটে যাচ্ছে।

মহিমা।। অণুগল্প

মহিমা ।।

ভৈরব ঘোষালের বিধবা রাজু বুড়ি মারা গেছেন। একমাত্র পুত্রসন্তান বলরাম ঘোষাল শ্রাদ্ধ করছেন। বলাইবাবু একটু হিসেবি বটেন, তবে তাঁর মিষ্টি কথার গুনে কৃপণ বলে বদনাম রটেনি কখনো। তাই দানসাগর না করলেও বেশ ষোড়শোপচারে মায়ের শ্রাদ্ধ করার মনস্থ করলেন তিনি। তাঁর প্রাণের বন্ধু ভবতোষ শ্রাদ্ধে থাকতে না পারায় তাঁর আক্ষেপ জীবনে যাবে না এমনটি শোনা গেল। তাই পরের সপ্তাহে কাজে যোগদান করে বন্ধুকে সেই গল্প সাড়ম্বরে শোনাতে শুরু করলেন।
- তারপরে বুঝলি ভবা, ঠিক করলাম মায়ের কাজে ত্রুটি রাখব না কোনোকিছুর। সাত গাঁয়ের না হলেও গ্রামের সবাইকে নাপিত পাঠিয়ে নেমন্তন্ন করলাম। মোটা মোটা লুচি, বুটের (ছোলার) ডাল, ডিংলার (কুমড়োর) ছক্কা, বঁদে আর মিষ্টি দই। সব তো ঠিকই ছিল, তা দইয়ের আর অর্ডার দেওয়া হয়নি, একদম ভুলে মেরে দিয়েছিলাম। শেষে যখন মনে পড়ল দোকানে মাত্তর একভাঁড়ই পড়ে ছিল।
- কি কাণ্ড! সারা গাঁয়ের লোক আর একভাঁড় মোটে দই! কিভাবে সামাল দিলি?
- তবে আর বলছি কি? আমি ভাঁড়টা নিয়ে সোজা আলমারিতে তুলে তালা দিয়ে দিলাম। বললাম, মাগো তোমার ছেলের সম্মানরক্ষার ভার তোমার হাতেই গো মা, দেখো যেন বদনাম না হয়!
- তারপর কি হল?
- আর কি বলব ভবা, সবই মায়ের মহিমে রে, ভাবলেই এখনও গায়ে কাঁটা দেয়। পেরায় হাজার খানেক লোক খেয়ে চলে গেল, বিশ্বাস করবি না, ওই একভাঁড় দই যেমনকার তেমনি রয়ে গেল!
পাশ দিয়ে অবিনাশ ঘোষাল যাচ্ছিল, বলরামেরই ভায়াদ, অতএব চিরশত্রু। সে খানিকটা শুনে দাঁড়িয়ে পড়ে ফুট কেটে গেল - তা তোমার যেমন কান্ড বলাইদা। লোককে না খাওয়ালে সে দই খরচ হবে কোত্থেকে শুনি?
- তুই চুপ কর অবু। তোকে বলেছি কিছু?

Saturday, April 25, 2020

পুতুল। অণুগল্প

পুতুল।।

রেহানার বিয়ে আজ, হাসনাবাদ হাই মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী রেহানা। মাদ্রাসা থেকে ফিরে বান্ধবী পরভিনের সঙ্গে পুতুল খেলছিল রেহানা। এমন সময় আম্মির আবির্ভাব, ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে! খেলার আসর থেকে জোর করে তুলে নিয়ে এসে ফ্রক ছাড়িয়ে একটা নতুন রঙচঙে শালোয়ার-কামিজ পরিয়ে দেওয়া হল তাকে। আব্বু ভ্যান-রিক্সা চালায়, দেখা গেল দুল্‌হা আর তার পরিবারকে নিয়ে আসছে তাঁরই ভ্যানে, পাড়ার ছেলে আনোয়ার। খুব সামান্য সাজসজ্জা হলেও উৎসবের পরিবেশ।

রেহানার আব্বা সেলিম নতুন কুটুমদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। রেহানার আম্মি বলছিল বটে ও নাকি পড়াশুনায় খুব ভাল, মাদ্রাসার মাস্টারমশায়-দিদিমণিরা অনেক আশা রাখেন তার উপর। কিন্তু মেয়েমানুষকে বেশি পড়িয়ে হবে কী, বিশেষ যখন একটা সাধা রিশতা হাতে এসেছে? না না, এই রোজগারে এর বেশি কিছু আশা করা যায় না। স্ত্রীর বিয়েতে তেমন মত না থাকলেও সেলিমের জেদাজেদিতে রাজি হতে হয়েছে।
সাক্ষী, অতিথিরা এসে গেছে, নিকটস্থ মসজিদ থেকে ইমাম সাহেবও মেহেরবানী করে আসতে রাজি হয়েছেন। দেনমোহরের কথাবার্তা হয়ে গেছে, শুধু নিকাহের কাজটুকু বাকি। কিন্তু দেরি হচ্ছে কেন? রেহানা অবশ্য সকাল থেকেই খুব কান্নাকাটি করছিল, তা মেয়ে যখন পরের বাড়ি যাবার আগে তো কাঁদবেই। সেলিম মিঞা ভেতরে সাকিনাবিবিকে তাগাদা দিতে গেল।

কিন্তু রেহানা কই? সাকিনা এদিক-ওদিক, খাটের তলা আলমারির পেছনে খুঁজে বেড়াচ্ছে, রেহানা কোথায়? 'ও গো কী হবে, রেহানাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না'- কেঁদে ফেলে সাকিনা। আক্রোশে ওর চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকায় সেলিম, 'বল হারামজাদি, কোথায় ভাগিয়েছিস মেয়েটাকে?' সাকিনা উত্তর না দিয়ে কাঁদতে থাকে।
ভেতরে একচিলতে উঠোন আর গোসলখানা, তার এককোণে রেহানার খেলাঘর। পাশেই খিড়কি দরজা খোলা, পালিয়েছে রেহানা। খেলনার বাক্সের পাশে পড়ে আছে গত সপ্তাহে শবেবরাতের মেলায় কেনা ওর নতুন পুতুলখানা- তার ধড়খানা পড়ে একদিকে, গলাটা ছুরি দিয়ে কাটা- মাথা পড়ে আছে অন্য একদিকে। উদ্‌ভ্রান্তের মত ছুটে বাইরে বেরিয়ে এল সেলিম। একি, পুলিশ কেন?

'শোন হে সেলিম!' দারোগা শাসায়, 'তোমার মেয়ে বসে আছে হাসনাবাদ থানায়, দারোগা বললেন। তোমরা মাইনর মেয়ের বিয়ে দিচ্ছিলে, শালা জেল খাটতে হবে সেটা জানো? বিয়ে হবার আগেই রেহানা ওর এক দিদিমণির সাথে এসে থানায় রিপোর্ট করেছে বলে তুমি বেঁচে গেলে। আঠারোর আগে আর মেয়ের রজামন্দি ছাড়া বিয়ে দেবে না লিখে মুচলেকা দিলে তবেই তুমি রেহাই পাবে, এখন কী করবে তুমিই ঠিক কর।'
তদন্ত করতে একবার ভেতরে এলেন দারোগা সাহেব। গলাকাটা পুতুল আর পাশে পড়ে থাকা ধারালো ছুরি দেখে শিউরে উঠলেন তাঁর মত একজন পোড়খাওয়া মানুষ।

গল্পটা আমার শেষ হয় নি। রেহানাদের গল্প শেষ হয় না, চলতেই থা্কে, চলতেই থাকে যে পর্যন্ত না এরকমই নৃশংসভাবে খুন হয় আরেকটি রেহানার কৈশোর, তার পুতুল খেলার বয়স। আপনারা দেখুন না যদি গল্পটাকে একটা শেষ পরিণতি দিতে পারেন।     

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

Tuesday, January 7, 2020

নয়া শিবালয়।। ইকবাল (বাংলা অনুবাদ)

नया शिवाला / इक़बाल

सच कह दूँ ऐ बिरहमन गर तू बुरा न माने
तेरे सनमकदों के बुत हो गये पुराने।

अपनों से बैर रखना तू ने बुतों से सीखा
जंग-ओ-जदल सिखाया वाइज़ को भी ख़ुदा।

तंग आके मैंने आख़िर दैर-ओ-हरम को छोड़ा
वाइज़ का वाज़ छोड़ा, छोड़े तेरे फ़साने।

पत्थर की मूरतों में समझा है तू ख़ुदा है
ख़ाक-ए-वतन का मुझ को हर ज़र्रा देवता है।

आ ग़ैरियत के पर्दे इक बार फिर उठा दें
बिछड़ों को फिर मिला दें नक़्श-ए-दुई मिटा दें।

सूनी पड़ी हुई है मुद्दत से दिल की बस्ती
आ इक नया शिवाला इस देस में बना दें।

दुनिया के तीरथों से ऊँचा हो अपना तीरथ
दामान-ए-आस्माँ से इस का कलस मिला दें।

हर सुबह मिल के गायें मन्तर वो मीठे- मीठे
सारे पुजारियों को मय प्रीत की पिला दें।

शक्ती भी शान्ती भी भक्तों के गीत में है
धरती के वासियों की मुक्ती पिरीत में है।


নব দেবালয়।।
অল্লামা ইকবাল

অভয় দাও তো সত্য কথাটি বলি ওগো ব্রাহ্মণ,
তব দেবালয়ে বিগ্রহ আজ হল বহু পুরাতন।

এই সে দেবতা শেখালেন যিনি ভুলিতে আপনজন
হিংসা-দ্বেষের বিষবৃক্ষটি এ খোদা করে রোপন।

জ্বলে-পুড়ে শেষে ত্যজিনু সকল ধর্ম ও মজহব
ধর্মগুরুর বাণী ও যজন-পূজন মহোৎসব।

পাথর-মূরতি মাঝারে কোথায় খুঁজে ফের ঈশ্বর?
দেশের মাটির প্রতি কণামাঝে আছে তাঁর স্বাক্ষর।

এস হে বারেক ছিঁড়ে ফেল যত বিদ্বেষ-যবনিকা
বিভেদ-গরল ফেলিয়া পরাও মিলনের জয়টিকা।

যুগ যুগ ধরে শূন্য রয়েছে হৃদয়ের এ নিলয়
বারেক আসিয়া গড়ে তোল নব মিলনের শিবালয়।

বিশ্বের মাঝে শ্রেষ্ঠ তীর্থ হয় যেন সে মহান
শীর্ষ-কলস যেন রে ঊর্ধ্বে চুম্বে সে আসমান।
মহামন্ত্রের ধ্বনিটি ছড়াক আকাশ বাতাস জুড়ে
ভকত হৃদয় ভরিয়া উঠুক প্রেমের মধুর সুরে।

শান্তি, শক্তি, প্রেম ও ভক্তি সে মহাধ্বনির মাঝে
বিশ্বজীবের আত্মায় যেন মুক্তিমন্ত্র বাজে।।

Tuesday, December 31, 2019

প্যারডি কবিতা/ গান।


প্যারডি


১)
ছাড়ব না।।


ছাড়ব না, ছাড়ব না,
আমার আগে তোমায় আমি ছাড়ব না।
তুমি যদি ঢোক তবে ঘণ্টাখানেক কাটিয়ে দেবে।
না না না।।

অফিস যেতেই হবে আমায় আজ সকালে
দশটা থেকেই মিটিং আছে দেরি হলে
বস বলেছে করবে ফায়ার শুনবে না কো না না না।।

মিলবে না তো এক কাপ চা আটটার আগে,
ঘুমের ভানে দেখতে থাকো কে প্রথম জাগে।
তোমার আশায় থাকি নি তাই
নিজেই এখন চা বানিয়ে খাই,
সকল প্রয়াস বৃথা যেতে দেব না তো না, না, না।।


২)

ছলনা।।

সেই ভালো, সেই ভালো-
খাবারে যা হয় তা আনো।
খাইয়ে-দাইয়ে পরে খোঁটা দেবে,
এত ছলনাও যে জান।।

মোর থালা ভরে রেখেছ পান্তাভাত,
বুঝেছি তাতেই, কাটবে সারা রাত,
চাইনি তো বাটি-ভরা পরিপাটি
পোলাও কালিয়া সাজানো,
সেই ভালো, সেই ভালো।।
গোপনে দেখেছি তোমার ভায়েরা এলে টাকার খেলা,
ভেটকি ও খাসি আসে রাশি রাশি দেখেছি, দিনের বেলা।
তোমাতে আমাতে বন্ধ যে কথা
না'হলে শুধাতেম, এ টাকা পেলে কোথা,
জানি আছে পড়ে পকেট গভীরে
ফাঁকা মানিব্যাগ সাজানো।।

৩) বর্ষা-অমঙ্গল কাব্য।।
পাপের-শাপের মোচন ঘটুক বাদল গর্জনে।
হৃদয় আমার ফেলে মোটরকার, ওঠ জলযানে।।
অঝোর-ঝরন আগস্ট-মাসে, চাপে কেউ কভু ট্রামে কি বাসে
সাথে ফাউ, বিজলি উধাও, আছে কপালে কী কে জানে?।
কাঁদুক আকাশ, কাঁদুক বাতাস, কাঁদুক নিখিল ধরা,
ডুবুক বিশ্ব দেখে সে দৃশ্য নর্দমা কর্দম-ভরা।
পথ হল নদী জলে জলময়, সাঁতার কাটার ভাল এ সময়
মোটর ভোলাও, নৌকো চালাও, ভাসাও রে উজানে,
হৃদয় আমার এ দেশে বসেই ভেনিসের মজা নে।।

৪)
শেষ ব্রকোলি।
(একটি করুণ-রসসিক্ত #প্যারডি)
আমার সবজি বাগানে
যবে প্রথম ধরে ব্রকোলি ,
তোমার লাগিয়া তখনি বন্ধু
রেখেছিনু কিছু তুলি।।
তখনও আসেনি মালী, সখা,
বেগুন ধরেছে খালি
এখানে-সেখানে দু-চারটে করে
ফুটেছে পেঁয়াজ কলি।।

এখনো পাতার রঙ
শুষেনি সব সি-ওটু এবং
ফুলে এখনও বসেনি অলি।
ও মোর সবুজ ব্রকোলি,
ও তোর গিয়েছে সকলই-
শুধু রঙ খানা রয়ে গেছে
তাও দিতে চাস কি রে বলি!!
(সি-ওটু= কার্বন ডায়োক্সাইড, আমার বিশ্বাস, প্যারডি গানে কেমিক্যাল ফরমুলা ইতিপূর্বে ব্যবহৃত হয়নি)

৫)
নিশিকুটুম্বের গান।।
জাগরণে যায় বিভাবরী।
সিঁদকাঠি নিয়ে হাতে শুধুই ঘুরি।।
হায় কী করি! হায় কী করি!
আগুন লাগলে ঘরে তবু যে ঘুমায়
আজ তার নাকডাকা শুনতে না পাই
কিভাবে সে ঘরে আজ কী ভাবে রে
কিভাবে সে ঘরে আজ করব চুরি?।
হায় কী করি! বাঁচি না মরি!
ওষুধ ছড়িয়ে দিনু জানলা দিয়ে
এবার ঘুমোও। এবার ঘুমোও খুড়ো নাক ডাকিয়ে।
এখনও আওয়াজ? দেখি উঁকিটি মেরে-
ও হরি! টিভি-যে চলে রাত্রি ধরে
সারারাত রাম রাম আরে রে ছিছি-
সারারাত মিছিমিছি চৌকিদারি।।
হায় কী করি! খালি হাতেই ফিরি!

৬) 
একটি প্রেমের গান !
তার হাতে ছিল একটি টিনের ক্যান পেট্রোল তেলে ভরা
পেট্রোলের তেলে ভরা ।
মোর সাথে ছিল পেঁয়াজ ভরা থলে
নাসিক থেকে বাজার করা ।।
সহসা আসিয়া কহিল সে সুন্দরী, এসো না বদল করি ।
রাঁধছি চিকেন বাড়িতে, তেল ভরে নাও গাড়িতে- নাও ত্বরা ।।
তুমি যদি ওল, আমিও তেঁতুল- বললাম, তবে এসো
লিফট দি-নাহয়, আমার পাশেই বসো ।
দুজনেই মোরা হলাম যে জয়ী একে অপরকে পেয়ে
কিছুই হলনা গো হাতছাড়া !!
(ক্ষমা কর রবিঠাকুর, এমনও হয় !)

৭)
পদবী-গীতি
'ধর' হেঁকে কয় ধরো ধরো,
'দে' বলে সব দে,
'কর' বলেছে ট্যাক্সো চাহি,
'বল' কি বলিস রে!
'ঘোষ' বলে ভাই মলেম ঘষে-
'বোসে'র বাড়ির দাওয়ায় বসে,
'ভড়' বলে তোর ভড়ং দেখে
হেসেই বাঁচি নে!!
'পাঁজা' বলে ইঁটের পাঁজায়
আছে বাদামভাজা,
'সাঁতরা' বলে সাঁতরে গিয়ে
যে খায় সেই তো রাজা।
'সাহা' 'রায়' গিয়ে কাঁদে সাহারায়
'ভদ্র' লোকে যায় কি সেথায়?
হয়ে পূজারি 'ঠাকুর' চুরি
করে বেড়ায় কে?? 
('মেঘ বলেছে যাব যাব'-র সুরে গাইতে হবে)
৮) 
ভোট-রঙ্গ


হারজিতের এই ভোটেতে, মিলবে যারা জোটেতে
ও ভাই, ও ভাই, জিতবে যে তারাই ।
ধান্ধাবাজির ফন্দিতে, জুটতে হবে সন্ধিতে
জামাই বোনাই, মিলবে রে যারাই ।।
এখানে যোগ-বিয়োগের ফলে
লক্ষ কোটির খেলা চলে
গোটা দশ লাশ ত কিছুই না,
দুটো ভোট বেশী পেতে হলে-
দু-কান যাদের নাই জিতবে যে তারাই ।।
জিতবে কে গো, হারবে কে গো
খবর রাখে চ্যানেল গুলো, জিতবে কে গো ।
সারারাত জেগে যে ছোঁড়ারা
দেয়ালে ছোটায় গো ফোয়ারা,
গোপনে যারা বাঁধে পেটো
বাইকের মিছিল চালায় যারা -
তাদেরই লাশের উপর জিতবে দাদারাই ।।
(একটি জনপ্রিয় বাংলা ছায়াছবির গানের প্যারডি)

৯)
শুধু তুমি।।

চলনে-বলনে নাচনে-কোঁদনে তুমি যে ফেলেছ সাড়া
রঙেতে-তুলিতে, কবিতা ও গানে একি তব বোঝাপড়া--
তুমি যে আগুন, সবেতে দ্বিগুণ, মেলালে অহি-নকুলে
আনিলে ক্রান্তি শ্মশান-শান্তি এই ভাগীরথী কূলে ৷
বাঘে ও ছাগলে দেখে এক ঘাটে রোমাঞ্চিত এ ভূমি
আজ বাংলার ঘাসের শিকড়ে তুমিই শুধু তুমি ৷৷
সিন্দুরে মেঘে জ্বলে যে গোয়াল, সে দীপের শিখা তুমি
ঢেলে বহুজল নেভালে অনল- গরুও বাঁচালে তুমি ৷
আপনা বিলায়ে ফেলেছ তুমি যে তিনটি ম-এর মাঝে,
লালেতে-নীলেতে বিভেদ ঘটালে, এ তোমায় নাহি সাজে ৷
দূকূল-আঁচলে ভরেছ মুকুলে, হাওয়াই পরশে ভূমি
হুগলী-নদীর জুড়ি দুই তীর তুমিই শুধু তুমি ৷৷
সহসা দেখিনু তোমার দুচোখে কোন্ সে ভয়ের ছায়া
নাকি রজ্জুতে সর্প দেখিলে এ কোন অজানা মায়া ৷
জানে রাজারানী ক্ষমতা তোমার- কারো তা নয় অজানা
তোমারি শিয়রে জনগণ জাগে, তোমারই পুলিশ থানা ৷
কে কোথা কি লেখে, কি গায় কি আঁকে কি তাতে তোমার শুনি
এই বাংলার প্রতি ঘরে ঘরে তুমিই শুধু তুমি৷৷
(কার্টুন-কাণ্ডের পর দিদির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ, এপ্রিল ১৯, ২০১২)
 (কৃতজ্ঞতাঃ শ্রীমতী মীরা দেববর্মণ)



১০)
(মহাভারতকে রবীন্দ্রসংগীতের মত করে গাওয়া হলে কেমন হত?)

ভীষ্ম যখন যুদ্ধে মগন, নিয়ে কুরু দল ভার
অর্জুন বাদে পাণ্ডব সব ভয়েই পগার পার।।
ধনুক-বাণের এই মেল কি,
কে দেখেছে কবে হেন খেল কি?
বৃদ্ধ-হাড়ের এমন ভেল্কি দেখ চেয়ে সংসার।।
গুণ জুড়িয়া বান ছুঁড়িয়া কে দাঁড়িয়ে রথে
এ যে শিখণ্ডী, পুরুষ-বেশে আস্ত নারীই বটে!
অস্ত্র ছাড়েন পিতামহ,
কৃষ্ণ বলেন এবার লহ
হাতে গাণ্ডীব পার্থ, কর ভীষ্মকে সংহার।।



১১)
কচুরি।।


ও কে কচুরি ভেজে খায়?
লুকিয়ে কড়াইশুঁটি সবুজ আভায়।।
গরম ঘি-এ লেচি ভাজা
ফুলে ফুলে খাস্তা খাজা,
যে খায় এসব সেই তো রাজা
মুকুট ছাড়াই।।

কী যেন বীণার মত, বেজেছে জিভের তারে,
যেন অমৃতের মত আভাস দিয়ে রয় সে দ্বারে।
রসনার কুঞ্জবনে দোলা দেয় অকারণে
এ স্বাদের ভাগ দেব না, করব লড়াই।। 



১২)
কুমড়ো।।
আমার কুমড়ো বাগানে যখন প্রথম ধরেছে কুঁড়ি ৷
তোমারি লাগিয়া তখনই বঁধুয়া তলায় ধরেছি ঝুড়ি ৷৷
তখনও ফোটানো জলে সখা দিইনি চা-পাতা ফেলে,
স্কুটারে স্কুটারে অফিস হইতে ফেরেনিক ছোঁড়াছুঁড়ি ৷
এবার মুড়ির থালায় আচারের তেলটি ঢালার পালা,
মাখা হবে যে এখনই মুড়ি !
ওরে অবাধ্য কুমড়ো কবে রে তোর কুঁড়িগুলো ফুল হবে,
বন্ধু ঘরেতে ফেরার আগেই ফুটে ওঠ তড়িঘড়ি ৷৷



১৩)
মুড়ি
রাগ: মালগুঞ্জি, তাল: কাহারবা


কুঁড়েঘর থেকে তুমি প্রাসাদেতে এস মুড়ি
পায়ে হেঁটে লাগে লাজ? এস দিয়ে হামাগুড়ি।
জলপান কি আহারে ভাজাভুজি সমাহারে
মরিচ পেঁয়াজ সাথে দাও জিভে সুড়সুড়ি!

বাংলা গঞ্জে গ্রামে বিখ্যাত ঝালমুড়ি
কিম্বা মুম্বাইয়া মুর্মুরা ভেলপুরি,
একটু সর্ষে তেল- কালিয়া পোলাও ফেল,
মাখো কলাইয়ের ডাল, মোটেও হবেনা ভুঁড়ি।

(এই গানটা নজরুলের 'গুনজা মালা গলে কুঞ্জে এস হে কালা' র সুরে গাইতে হবে।)




১৪)
ক্ষুধাতুর শিশুর রবীন্দ্রসঙ্গীত ।

মন বলেছে খাব খাব, পেট বলেছে খাই,
মা বলেছে, কোথায় পাব, খাবার তো আর নাই।।
উদর বলে রইনু চেপে, মাঝে মাঝেই উঠছে কেঁপে,
আমি বলি একটুকু ভাত, আর কিছু না চাই।।
কান্না চোখে ঘুমিয়ে পড়ি, নিয়ে ক্ষুধার জ্বালা
স্বপন দেখি আমার তরে লক্ষ রুটির থালা।
হাত বাড়িয়ে যেই পেতে চাই, সকল খাবার উধাও যে ভাই,
পূর্ণিমা চাঁদ তাকিয়ে হাসে, কোথাও কিছুই নাই।।


 ১৫)
ক্য়ালাবেন তিনি।।
ক্য়ালাবেন, তিনি ক্য়ালাবেন।
আছে যত সব পা-চাটার দল,
কোলের বখরা নিয়ে কোলাহল
করে শুধু যাঁরা চলেছেন।
এক এক করে সবাইকে ধরে পেটাবেন।
পাগল-ছাগলে কত কথাই না বলছে,
তেলা মাথাটিতে কত তেলই তারা দলছে
সে মাথায় দেখি তেলাপোকা হেঁটে চলছে-
কত আর তাকে তেলাবেন?
পালাবে কোথায়, সবকটাকেই
ধরে ধরে তিনি ক্য়ালাবেন!
হিসেবের কথা বলি তবে শোনো ,
দুয়ে দুয়ে পাঁচ হয়্না কখনও
দুয়ে দুয়ে শুধু দুধটি ফুরনো
গাইটিকে কত দোয়াবেন?
দু'য়ে দু'য়ে চার কত তিনি আর মেলাবেন,
এবার সবারে ক্য়ালাবেন!
(কবি অমিয় চক্রবর্তীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।) (১৬) টিকটিকি ও তেলাপোকা।। যদি তারে না চীনেয় নেয় তবে
টিকটিকিতে নেবেই খেয়ে-
ওই যে গো সে দেয়াল বেয়ে
এল ধেয়ে! এল ধেয়ে!

সেকি তাহার এক কামড়ে
ধরবে কষে শক্ত করে-
চিবিয়ে খাবে কুড়মুড়িয়ে,
তাই সে আসে দেয়াল বেয়ে
এল ধেয়ে ! এল ধেয়ে!

সেকি মুখের জোরে দাঁত বসাবে
তারে ধরলে চেপে লেজ খসাবে।
চিমটা তাহার মুখের আকার
হঠাৎ মরণ তেলাপোকার,
তাকিয়ে থাকি অবাক হয়ে,
ওই দেখি সে দেয়াল বেয়ে
এল ধেয়ে! এল ধেয়ে!


(১৭)
লুচি ও লকডাউন।।

মানুষ মারে সে মনের হরষে স্ট্যাটাস পানে না চাহি রে!
লকডাউনের মাঝে আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে!
বন্ধ দুয়ার বাজার আপিস
মাছ-তরকারি সকলি হাপিশ,
রাস্তা জুড়িয়া ঘুরিছে পুলিশ কাণ্ডটা কী এলাহি রে!!
ওগো দ্যাখ চেয়ে রান্নাঘরেতে থালা জুড়ে লেচি সাজা রে।
এখনই যে শুরু হবে লুচিগুলো ভাজা রে।
একবার উঁকি মেরে দ্যাখ দিকি
ছ্যাঁক-ছ্যাঁক রব শুরু হয়েছে কি?
করোনাতঙ্কে শুকনো মুখেতে ফুটেছে কি হাসি তাজা রে!
আজ ঘরে থাক, কাজ নেই গিয়ে বাজারে।।
গোল গোল লুচি ফুলিয়া ফুলিয়া ফাটিছে থালাতে থালাতে,
এই শুভক্ষণে চাস কোনখানে পালাতে?
আলুর দমেতে বাটি ভর-ভর
কড়াই-শুঁটিও কাঁপে থর-থর,
হিং-এর সুবাসে প্রবাসী-বন্ধু আনমনা হল বিলাতে।
ময়দা-ময়ানে মাখানো লেচিরা ঘিয়ে এল অবগাহি রে!
ওরে আজ তোরা পাত পেড়ে বোস, যাসনে ঘরের বাহিরে।।



(১৮)
শুক-সারি সংবাদ।

ছাতিম গাছ বিলাসিনী পেঁচি আমাদের।
পেঁচি আমাদের পেঁচি আমাদের-
আমরা পেঁচির, পেঁচি আমাদের!
শুক বলে আমার পেঁচা দিনে নাহি দেখে,
সারি বলে আমার পেঁচি চশমা পরে থাকে,
রোদ যে তাইতে ঢাকে!
শুক বলে আমার পেঁচা পরম রূপবান,
সারি বলে পেঁচি ওকে ভাবে শারুখ খান
নইলে সবাই সমান!
শুক বলে আমার পেঁচা ভুতকে না ডরায়
সারি বলে ভূতেরা যে পেঁচিকে ভয় পায়,
তবে আর ভয় কে দেখায়!
শুক বলে আমার পেঁচা করল এম-এ পাশ,
সারি বলে তুলল পেঁচি দিয়ে লম্বা বাঁশ
না হলে পড়ত ধপাস!
শুক বলে আমার পেঁচা জিতল ভোটে ওরে-
সারি বলে টিকিটটা কে আনল চুরি করে,
নাহলে যে মরত ঘুরে!
শুক বলে আমার পেঁচা পার্লামেন্টে যাবে,
সারি বলে তাও ভাল দিন ঘুমিয়ে কাটাবে।
পেঁচিও সঙ্গে যাবে!
পেঁচি তার সঙ্গে যাবে!!!


১৯) ধর্ম ব্যবসা।
কোরান পড়িতে দিয়োগো আমারে
নিয়ো না, নিয়ো না সরায়ে।
বয়েত বলিতে না যদি বা পারি,
ফেলোনা আমারে মরায়ে।।
গলিত পচা এই সমাজের ভার
ধরম বেচিয়া টানি কত আর
নিজ হাতে তুমি কষে দিও মার
দোজখের বেড়া যাই পারায়ে।।
ক্ষমতাপিয়াসী পুরোহিত-মোল্লা
ভাগাও তাদেরে মারিয়ে,
নিজে এসে বোস নিজের দোকানে
খেদাও সবারে তাড়িয়ে।
বিকায়ে তোমারে তারা লাভ পায়
তোমার লাভের গুড় পিঁপড়াতে খায়,
মোর আর্জি তোমার কানেতে না যায়,
দালালের দেয়াল পারায়ে।।



২০)
দুঃসময়।

ছায়া ঘনাইল পথে পথে
কাননে কাননে ডাকে শেয়াল।
কবে মানুষের মাঝে মাঝে
গোপনে উঠিয়া গেল দেয়াল।।
কে জানে কাহার ইশারাতে
একদা খাইতে পান্তাভাতে
সহসা মাথাটি গেল নিয়া
কাটিয়া পুরোটি গেল নিয়া।।
যে বাটি ফ্রিজেতে ছিল ঢাকা
গোমাংস নাকি তাতে ছিল রাখা।
ওরে তোরা মারবি ত মার না
খামখা দিলি কেন এ বদনাম?
কেন মনে এল এই বদ্‌খেয়াল,
মানুষে মানুষে এই দেয়াল।।

২১)



Wednesday, December 25, 2019

চার্লাইনী- ছড়া।

চার্লাইনী


১)
ধর্মের মৃত্যু।।
হিঁদু কহে একদা, হে মোছলমান ভাই,
আছিনু সমাজমধ্যে সমান সবাই।
মানুষ আনিল যবে নিজ নিজ গরু,
ধর্মাধর্ম ঘুচে হল খাওয়াখাওয়ি শুরু!

(গরুর স্থলে 'গুরু' লিখলেও অর্থ বদলায় না।)

২)
ভোটযাত্রা।।

ভোটযাত্রা লোকারণ্য মহা ধূমধাম,
ভোটার বুথেতে গিয়ে করে মতদান।
লোক ভাবে আমি দেব, নেতা ভাবে আমি,
ই-ভি-এম ভাবে আমি, হাসিছে অম্বানী!

৩)
মূল্যবোধ।।

এম-এল-এর লিস্টে এক নির্দলীয় নেতা
জিতিয়াছে কোনমতে সে-ও জানে সেটা
সরকার গড়ার কালে মন্ত্রী বলে ভাই,
তুচ্ছ নহ, আমরা যে তোমাকেই চাই!

৪)
সৌপ্তিক-পর্ব।।

মন্ত্রী কহে যুক্তি করে আজকে সারারাতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মিলে চুক্তি নতুন পাতি।
বিরোধিদের পাণ্ডা আমার সুগ্রীব-দোসর,
সৌপ্তিক-পর্বটি সারা যখন হল ভোর!!

৫)
প্রমাণ।।

জনতার নির্বাচনে হয়ে বলীয়ান,
নেতা কহে যা-খুশি করার অধিকার
পেয়েছি হে, অতএব এবার ভোটার-
নাগরিক কিনা তার দেহো রে প্রমাণ!

৬)
সুবিধাবাদী।।

ক-দল থেকে ভোটে দাঁড়াই, তাইত গেলাম জিতে
খ-দল এবার টাকার থলি বাড়ায় আমায় নিতে।
গ-দল দিল দরটি উঁচু তাইতো ছুটে গেলাম
পাবলিক? কার পরোয়া করি? সেলাম টাকা, সেলাম!

৭)
গিরগিটি।।

যখন যেমন তখন তেমন, তাই হতে পাই যদি
আমায় তবে কক্ষনো আর ছাড়তে না হয় গদি!
বাম-জমানায় লাল পতাকা উড়িয়ে দিতাম সুখে,
চেয়ার ঝেড়ে নীল-সাদা রঙ আজ মেখেছি মুখে।

৮)
কেষ্টর কীর্তি।।

কেষ্টা কহিল 'মোর কী সাহস বল!
ভোটারে ডাকিয়া খেতে দিই গুড় জল।'
দিদি বলে, 'আমি আছি, তাই হাঁকডাক-
ভোট নিই আমি, তুই বাজা শুধু ঢাক!'

৯)
উন্নয়ন।।

গুরুজিরে শুধালেম দেশে এত গুণী
তবু মোরা এগোইনা কেন বল শুনি।
গুরু কহে সর্বশক্তি দিয়ে সবে টানে,
একদল সম্মুখেতে অন্যে পিছুপানে!

১০)
রাজদণ্ড।।

রাজা কহে রাজ্যে থাকি আমি যতক্ষণ
প্রজাগণ কোলাহল করে বিলক্ষণ।
পালাই বিদেশে আমি, গৃহমন্ত্রী থাকে
বংশদণ্ড হাতে নিয়ে সুশাসন রাখে।