১
আমাদের মেসবাড়ির ম্যানেজার ছিল অসম্ভব কঞ্জুষ আর ধড়িবাজ। একদিন রবিবার সে খবর দিল যে সুইট-ডিশে লাউয়ের পায়েস রান্না হয়েছে। 'ও, তোমার লাউএর পায়েস তো', এক বন্ধু বলল,'কিসমিস,কাজু কিছুই পড়ে না। সব আমার জানা আছে'।
- না দাদা, এবার ফিফটি-ফিফটি কাজু পাবেন- ম্যানেজার আশ্বাস দেয়।
খাওয়ার সময় যথারীতি দেখি কোথায় কাজু, কোথায় কিসমিস! 'এই তোমার ফিফটি- ফিফটি', আমি গর্জন করে ডাকি ম্যানেজারকে।
- আজ্ঞে মিথ্যে বলিনি। দুটো লাউ দিয়ে পায়েস হয়েছে, দুটো কাজু দিয়েছি!
উপস্থিতবুদ্ধি আর রসবোধের নিরিখে ঢাকার কুট্টি গাড়োয়ানরা একসময় ছিল অতুলনীয়। ঢাকার অন্যতম সেরা বৈশিষ্ট্য ছিল এরা। জানিনা সম্ভব ছিল কিনা সেযুগে, কিন্তু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার চেষ্টা করলে এদের নামে জি-আই ট্যাগ দাবী করতে পারত। শ্রদ্ধেয় সৈয়দ মুজতবা আলি সাহেব ও অন্যান্য অনেকেই এদের রসিকতার কিছু গল্প লিখে গেছেন, তার দু-একটা নীচে দিলাম।
- হ, যামু না ক্যান? তিন ট্যাহা লাগবো।
- কি যে কও! দুই টাকা লইও।
- (গাড়োয়ান বাবুর কানের কাছে মুখ এনে চুপিচুপি) আস্তে কন কত্তা, ঘুরায় হুইন্যা হাসবো!
উল্টিয়ে পরেছে। ও পেরিয়ে যেতেই এক কুট্টি গাড়োয়ানের টনক নড়েছে। কত্তা শুনেন, অ কত্তা শুনেন- করে হাঁকডাক শুরু করে দিয়েছে। তা কত্তাটি কি হয়েছে ভেবে ফিরে এসে শুধোয়- কও, কী হইসে? ডাকছিলা ক্যান?
- কিছু না কত্তা। এই জিগাইত্যাসিলাম, কত্তা আইতেসেন না যাইত্যাসেন?
-হ যামু, তিন ট্যাহা দিয়েন।
- কী কও, দুই টাকা দিমু। এই তো কাছেই, দ্যাখা যায়।
- অ! দ্যাখা তো চান্দঅ যায়! তা যাইন না চান্দে দুই ট্যাহায়!!
এবার কুট্টি মেজকর্তার দিকে না তাকিয়েই পাশের পাঁঠাটাকে এক লাঠির বাড়ি দিয়েছে- তগো বন্ধু ডাকত্যাসে, সাড়া দিস না ক্যান?
ভদ্রলোকের এক কথা।
দাদু- হর্স? গুরা।
দাদু- ইংরেজ যুদ্ধা যারে কয় গুরা!
দাদু- এও জানস না! গুরা।
২)
নাতি - (টেনিস খেলোয়াড় ইলি নাসতাসের সহাস্য ছবি দেখিয়ে) দাদু, এই দেখ নাসতাসে।
দাদু - আরে নাসতাসে কই, এ তো দেহি হাসতাসে!
৩)
- উরিব্বাস দাদু, তুমি আজ হেব্বি রোমান্টিক হয়ে গেছ মাইরি। সেই থেকে ঠাম্মাকে কখনও ডার্লিং, কখনও হানি, নয়তো সুইটহার্ট বলে ডেকে যাচ্ছ!
- চুপ চুপ! ক' না দাদুভাই তর ঠাম্মার নামডা। সক্কাল থেইক্যা মনে পড়ত্যাসে না।
.
৪)
দাদু - এই যে দাদুভাই দিনরাত ঘুরে বেড়াও, তিথির খবর রাখ? বাতের ব্যথাডা বাড়সে, আমার যে পূর্ণিমা জানতে লাগে।
নাতি - (বাইক মুছতে মুছতে) কোন কলেজে পড়ে শুধু এইটুকু বল, এক ঘন্টার মধ্যে পূর্ণিমা-টুর্ণিমা সবার খবর এনে দিচ্ছি!
দাদু হার্টফেল!
শিশুশিক্ষার হাফ ডজন।।
(১)
বাবা- আজ তোর স্কুলের রেজাল্ট না?
ছেলে- হ্যাঁ বাবা।
বাবা- এবারও যদি পাশ করতে না পারিস, আমাকে বাবা ডাকিস না।
ছেলে- বাবা! এটা স্কুলের টেস্ট, কোন ডি-এন-এ টেস্ট নয়।
(২)
পটলা বাড়ির বারান্দায় মনমরা হয়ে বসে আছে। এক পথিক যেতে যেতে জিগ্যেস করল-
- কি খোকা, তুমি বাইরে বসে আছ কেন একা একা?
- ভেতরে মা বাবার সঙ্গে মারামারি করছে।
- আচ্ছা! তোমার বাবার কী নাম?
- ঝগড়াটা তো তাই নিয়েই।
(৩)
একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে একটি ফুটফুটে বাচ্চা মেয়ে খেলে বেড়াচ্ছে। মিষ্টি বাচ্চাটাকে দেখে অনেকেই ডেকে নাম শুধোচ্ছেন। মেয়েটি সবাইকে উত্তর দিচ্ছে- 'মাই নেম ইজ রিয়া, মাই ফাদার্স নেম ইস ডিকে বোস।' মেয়ে এত কথা বলে! মা এসে ধমক দিয়ে বলেন- 'কী হচ্ছে রিয়া? তোমাকে নাম জিগ্যেস করলে নিজের নামই বলবে, বাবার নাম বলার কী দরকার? বাজে কথা বলতে মানা করেছি না!' মেয়ে ইতিবাচক ঘাড় নাড়ল।
কিছুক্ষণ পরে এক ভদ্রলোক মেয়েটিকে দেখে প্রশ্ন করলেন, 'আরে, তুমি রিয়া না, মিঃ বোসের মেয়ে?"
- "হ্যাঁ, আমি রিয়া। তবে মিঃ বোস আমার বাবা- এটা বাজে কথা।'
- "সে কী!"
- "হ্যাঁ, আমার মা আমাকে বলেছে, ওটা বাজে কথা!"
(৪)
ছেলেঃ মাম্মা, বাপি আজ আমাকে কিস না করেই অফিস চলে গেল।
মাঃ নিশ্চয় তুমি ম্যাথস পারনি ঠিকমত!
ছেলেঃ আহা, মালতীমাসি যেন কত ম্যাথস জানে!
(৫)
প্রথম বন্ধুঃ আর বলিস না, আমার ওইটুকু বাচ্চা মেয়েটা, সদ্য হাইস্কুলে গেছে, কাল দেখি স্কুল যাবার আগে ঠোঁটে লিপস্টিক লাগাচ্ছে!
দ্বিতীয়ঃ তবু ভালো। আমার সুপুত্তুরটি ক্লাশ নাইনে পড়ে, সেদিন দেখি স্কুল থেকে ফিরে ঠোঁট থেকে লিপস্টিক তুলছে!
(৬)
মাঃ তারপর হল কি, দেবকীর ছেলের হাতে মরতে হবে জেনে কংস না, দেবকী আর বসুদেবকে জেলে পুরে দিল। তারপর ওদের একটা করে ছেলে হয়, আর কংস তাকে মেরে ফেলে।
পাপ্পুঃ আচ্ছা মা, কংসের মাথায় এল না, যে এত কাণ্ড না করে দেবকীকে একা জেলে রাখলেই পারত, বা আলাদা আলাদা রুমে?
মা (স্তম্ভিত হয়ে)ঃ কী আর করবে? নিশ্চয় কংসের বাড়িতে কোন পাপ্পু ছিল না তখন!