Monday, August 31, 2015

Translation- Bengali to Hindi

"বলছি ওরে ছাগলছানা,
উড়িসনে রে উড়িসনে,
জানিসনে তোর উড়তে মানা-
হাত-পাগুলো ছুঁড়িস নে !"

(সুকুমার রায়)

ए बकरी का बच्चा,
उड़ना मत रे उड़ना मत,
पंख नहीं हैं तेरे
क्यों फेंकता है पांव-हाथ?

Bengali Humor- যাচ্ছেতাই ।।

যাচ্ছেতাই ।।
(১)


কিছু কিছু লোক আছেন যাঁরা মুখটাকে যথাসম্ভব গম্ভীর করে এমন অনেক কথা বলে যাবেন, শুনে মনে হবে সেসব বিশ্বের গভীরতম রহস্য ও তার সন্ধান একমাত্র তিনিই জানেন। পরে একটু চিন্তা করলেই সব ভড়ং বোঝা যায় কিন্তু সেই মুহূর্তে অন্য কিছুই আর মাথায় আসেনা। এরকম একজন ছিলেন আমার বিশ্বেশ্বর ওরফে বিশুমামা।
বিশুমামার গানবাজনার খুব শখ ছিল। নিজে কতটা বুঝতেন জানি না, তবে আনকোরাদের ভড়কি দিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। 'সেবার রাজাভাতখাওয়া সংগীত উৎসবে ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা'- এইরকম একেকটা চমক দিয়ে শুরু হত তাঁর গল্প। আমি হয়ত রাজাভাতখাওয়া জায়গাটা কোথায় তা জানতে চেয়েছি, কথাটা ঘুরিয়ে দিয়ে মামা বলতেন- 'সে এক মজার জায়গা। পৃথিবীর সব রাজাদের অন্নপ্রাশন হত সেখানেই। তা এরকম একটা জায়গার সংগীত সম্মেলন বলে কথা। ওস্তাদ আর পণ্ডিতদের বিশাল জমায়েত হয়েছে।'
- আচ্ছা মামা, এই ওস্তাদ আর পণ্ডিতের মধ্যে তফাৎ কি? দুজনেই তো গান গায়!
- হ্যাঁ, তফাত তো সুকুমারবাবুই বুঝিয়ে গেছেন, পড়িসনি? 'ওস্তাদেরা লেপমুড়ি দেয় কেন মাথায় ঘাড়ে,/ টাকের পরে পণ্ডিতেরা ডাকের টিকিট মারে?' ইতিমধ্যে কানু আমাকে বোঝাতে লেগেছে যে মুসলমান গায়কদের ওস্তাদ আর হিন্দু গায়কদের পণ্ডিত বলে। ব্যাপারটা বিশুমামার নজর এড়ায় নি। 'হ্যাঁরে কানু, ওস্তাদি করছিস, না পণ্ডিতি ফলাচ্ছিস? দুটোই কিন্তু এখানে নিষিদ্ধ।' যাক, ব্যাপারটা শেষমেষ ভালয়-ভালয় মিটে গেল। বিশুমামার গল্প আবার শুরু হল।
- সে অনুষ্ঠানে লোকজন কিন্তু ভালই হত। গায়ক-বাদকরা দূর দূর থেকে আসতেন। শুধু হিন্দুস্থানী নয় কর্ণাটকি পণ্ডিতরাও আসতেন দক্ষিণ দেশ থেকে।
আমি আবার জিগ্যেস করতে যাচ্ছিলাম কর্ণাটকি নিয়ে কিছু একটা। সুজয় কানে কানে বলল, 'আরে করিস কি! এখনি বলে দেবে যারা নাটক করে তারাই কর্ণাটকি।' শুনে আমি চুপ করে গেলাম।
- সেবার এক পণ্ডিত এসেছেন উলানবাটোর থেকে। এদেশের শাস্ত্রীয়সংগীতে তাঁর বেজায় দখল। বলেন, ওঁদের গ্রামটা নাকি ধারোয়ারের কাছে, কর্ণাটকি আর হিন্দুস্থানী দুই ধারাই সমান চলে সেখানে। এতগুলো গায়ক-বাদক দেখে তো তিনি রেগে কাঁই। বলেন, 'আজীব বাত হ্যায়। একা আমিই তো রাতভর টানতে পারি, বাকিরা তবে কি করবে, হাঁ? এক-আধ ঘন্টে মে ক্যা হোতা হ্যায়? আরে ভাই শাস্ত্রীয় সংগীত কো ক্যা সমঝ রাখা হ্যায় তুমলোগ!'
এই শুনেই তো অর্গানাইজারদের হয়ে গেছে। সর্বনাশ! বিসমিল্লা, করিম খাঁ, শিবকুমারের মত তারকারা রয়েছেন আজ রাত্রে। তাঁরা তাহলে কি করবেন? যথারীতি বিনয়ের সাথে একটু ভেবে দেখতে বললেন তাঁরা। জবাবে পণ্ডিত কি বললেন ঠিক বোঝা গেল না। উনি শুধু বললেন, আমি রাগরাগিনী ঘড়ি ধরে গাই। সন্ধ্যার পূরবী দিয়ে শুরু করব, আর সেই রাগের সময় পেরিয়ে গেলে আর সেটা গাইব না। এই বলে তিনি পূরবীতে আলাপ শুরু করলেন।
- তারপর? আমরা তিনজন শ্রোতা একত্রে বলে উঠলাম।
- তারপর পূরবীর আলাপ শেষে ধরলেন ইমনকল্যাণ, মালকোশ। তারপর খাম্বাজে একটা বন্দিশ শেষ করে যখন বেহাগে তারানা ধরেছেন তখন রাত্রি দুটো। শেষপাতে যখন ভৈরবের পর আশাবরীর একটা তান দিয়ে শেষ করলেন, তখন সূর্য উঠে গেছে আর উদ্যোক্তারা মাথার চুল ছিঁড়ছেন।
- সে কি, আর অন্য ওস্তাদেরা?
- আরে সেটাই তো কেউ বুঝতে পারছে না যে সবাই এত শান্ত কেন। শেষে ওস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ তাঁর সানাইটা মাথায় ঠেকিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'সমবেত শ্রোতাগণ, গত দু-ঘণ্টায় উলানবাটোরের পণ্ডিতজি আমাদের সন্ধ্যে থেকে সকালের চার প্রহরের আটটা বিভিন্ন রাগ গেয়ে শুনিয়েছেন। অাল্লাহ কা করিশ্মা দেখিয়ে, জেইসা রাগ ওইসা সময় দিখাই দিয়ে হামারি আউর আসমান কি ঘড়ি মেঁ।' সত্যি সবাই তাকিয়ে নিজের নিজের ঘড়িতে দেখে রাত্রি ন'টা বাজছে মাত্র। হল হাততালিতে ফেটে পড়ে।
হঠাৎ কি যেন একটা জরুরি কাজ মনে পড়ায় বিশুমামা চটপট উঠেই পিট্‌টান দিলেন।
আমরা তখনও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসে আছি, কানু বলে উঠল, 'ইয়ার্কি পেয়েছে! একটা রাগের আলাপ থেকে অন্য রাগের মুখড়া, মালকোষের অন্তরার পরে খাম্বাজের তা্রানা। মালকোষ পঞ্চম বর্জিত রাগ, তবলা-তানপুরা সব মধ্যমে বাঁধতে হয়- ততক্ষণ পাবলিক হিপনোটাইজড হয়ে বসে থাকবে!'
- 'উলানবাটোর থেকে ওস্তাদ! উলানবাটোর ধারোয়ারের কাছে! গুল মারার আর জায়গা পায়নি। উলানবাটোর মঙ্গোলিয়ার ক্যাপিটাল- যেন আমরা জানিই না।' সুজয় বলে উঠল, ও আমাদের মধ্যে একটু সিরিয়াসলি পড়াশুনা করে।
- 'যদি জানতেই তবে বলতে পারলে না কেন, চাঁদ? নাকি তোমরাও হিপ্নোটাইজড হয়ে গেছিলে' - বলার পালা এবার আমার।
- 'হয়তো তাই'- আমরা সবাই একসাথে বলে উঠি।

মুম্বাই- ২৭শে আগস্ট, ২০১৫।

Wednesday, July 29, 2015

Bengali Poem- "আজব ভূগোল"

আজব ভূগোল ।।


'হিংলাজে' হিং চেয়ে লজ্জা কি কম বা?
'সিকিমে'তে টু সি কিম্‌? অষ্টটি রম্ভা!
'পণ্ডিচেরি'তে নাকি চেরি খুব সস্তা?
'জামনগরে'তে জাম দশ টাকা বস্তা!

আজব ভূগোলে ভাই লেখা আছে 'ভুটানে'
পা দুখানি ওঠে না, ভূ-অভিকর্ষ টানে।
'রাজাভাতখাওয়া' গিয়ে রাজা ভাত খায় কি?
মাল-দার সবলোক থাকে 'মালদা'য় কি!

শীতকালে গাছ থেকে পাতা যায় ‘ঝরিয়া’,
ভারতকে হকিতেও হারাল কী 'কোরিয়া’?
চিনি যদি নাই চিনি যাব কি 'চিন'-পানে,
‘যা পান আনগে’ বলে পাঠাবে কি 'জাপানে'?
লঙ্কায় ঝাল নেই, ঝাল কি 'শ্রীলঙ্কা'য়
'সিঙ্গাপুরে' সিঙা ফুঁকে মরে ভয়ে-শঙ্কায়।
'খাইবার পাস' থেকে পাশটি করে এসে
'পুরী' গিয়ে ভুরিভোজ খায় লুচি পায়েসে।

আর্মানি হার মানি জার্মানি ছোটে রে
কাতারে কাতারে লোক কাতারেই জোটে যে!
 'নাই রবি', তবু তা যে আঁধার নগরী নয়
'কে নিয়া' গেল বলে সে দেশ উদাস হয়। 
শহরেতে বাস করে ‘বন’বাসী কাহারা?
বে-সাহারা মরুভূমি, নাম তবু 'সাহারা'!
পুত্রের দেশ বলে 'পো-ল্যান্ড' কে জানি গো
জামাতার বলে তবে 'জামাইকা' মানি তো? 
যাও আর এসো শুনে গিয়ে দেখি 'গোআ'তে-
গেছে- জেনে পিণ্ডি কে দিয়ে এল 'গয়া'তে।।

(মুম্বাই, ৩০শে আগস্ট, ২০১৫)

Bengali From Diary - 'Smriti Satatai'



।। স্মৃতি সততই ।।



শিলচরে 'রাবিন্দ্রিকী' গোষ্ঠীর অন্যতম কর্ণধার শ্রীমতী মৈত্রেয়ী দামের কাছে আমার স্ত্রী তখন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখতেন। স্বামী রূপক ও কন্যা সোহিনীকে নিয়ে বেশ একটা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ছিল গুরুচরণ কলেজ রোডের ঐ বাড়িটিতে। ওখানেই দেখেছি সাহিত্যিক দেবেশ রায়কে, 'তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্ত' উপন্যাসের জন্যে সদ্য তিনি তখন আকাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। দেখেছি গৌরী ঘোষকে, সাংবাদিক অশোক দাশগুপ্ত ও ঢাকার প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞা প্রফেসর সন্‌জিদা খাতুনকে। ১৯৯১র মে মাসের এক বৃষ্টির দিনে রবীন্দ্রজন্মবার্ষিকীর প্রস্তুতির ফাঁকে ফাঁকে আড্ডা জমেছিল। রূপকদা ও কিশোর শিল্পী রাহুল দত্ত গেয়ে চলেছে একের পর এক বর্ষার গান। তখনই মৈত্রেয়ীদি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে বলে উঠলেন- 'রবি ঠাকুর কি সব একেকটা বর্ষাঋতুর উপর গান লিখেছেন, কিন্তু আমাদের ভাগ্যে জুটেছে একটিই'।
- 'সে আবার কি?' সবাই হৈ হৈ করে উঠি। 'আমাদের ভাগ্যে মানে?'
- 'আর কিতা! ওই 'ঝর ঝর বরিষে বারিধারা। হায় পথবাসী, হায় গতিহীন, হায় গৃহহারা।' '
সবাই হো হো করে হেসে উঠলেও কথাটা যে কতটা সত্যি তা বোঝা গেল ২৫শে বৈশাখের অনুষ্ঠানের দিনেই। 'প্রভু আমার, প্রিয় আমার' নামে একটা গীতি-আলেখ্য চলছিল। রবি ঠাকুরের গানে যে প্রভু আর প্রিয়র মধ্যে বিশেষ ভেদ নেই, প্রেম আর পূজা পর্যায় কোথায় যেন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে, গানে গানে সেটাই যেন বোঝানো হচ্ছিল ইনিয়ে-বিনিয়ে। গিন্নী এই অনুষ্ঠানে নেই, তিনি বাপের বাড়িতে, আর আমি বসে দর্শক আসনে। এমন সময় রূপকদা হন্ত-দন্ত হয়ে এসে বল্লেন- 'ব্যস, কাম সারসে। শিলচরের দ্যাবতা হাতে-নাতে দেখাইয়া দিসেন- তাইনের 'প্রেমে আঘাত আছে, নাইক অবহেলা।'
- তার মানে?
- বরাক নদীর বাঁধ ভাঙিয়া বন্যা ছুটেছে......আইজকার প্রোগ্রামের এখানেই ইতি।
ব্যস, দশ মিনিটে হল খালি। জল ঢুকতে লাগলো হু হু করে। কোনোমতে স্কুটার চালিয়ে বাড়ি পৌছলাম। বাসায় শুধু মা ছিলেন, তাঁকে আর সে রাত্রে কিছু বললাম না।
পরদিন সকালে উঠেই দেখি ধুন্ধুমার কাণ্ড। সামনের রাস্তায়, তখনো ঠিক পাকা হয় নি, মোরাম-ঢালা ছিল, এক হাঁটু জল ও ক্রমশঃই বর্ধমান। পঞ্চায়েত রোডে আমাদের ভাড়া-বাড়ি, মালিক ব্যাঙ্কের অফিসার, নরসিংটোলায় থাকেন। সযত্নে বানানো বাড়ি্র বাগানটি রাস্তার লেভেল থেকে অনেকটা উঁচুতে, তারও আড়াই ফুট উঁচু বাড়ির প্লিন্থ। খুব বড়সড় বন্যা না হলে অতদূর জল ওঠা অসম্ভব, তাই বেশ নিশ্চিন্ত ছিলাম। কিন্তু এর একটা অন্য দিক ছিল, সেটা এবার টের পেলাম। পনের মিনিটের মধ্যেই হুড়মুড় করে এসে পড়ল আমার ঠিকে ঝি, কাচ্চা-বাচ্চা, তোলা উনুন, কাপড়-চোপড় নিয়ে একেবারে সপরিবারে। এক্ষেত্রে না বলা সঙ্গত নয়, এটাই কাছাড়ের দস্তুর। তারপর বন্ধুবান্ধবরা স্কুটার রাখতে আসতে লাগলো। ধীরে ধীরে আটটি স্কুটার নিয়ে আমার বাড়িটি অচিরাত একটি স্কুটার গ্যারেজে পরিণত হল।

(২)

এইবার চিন্তা হল অফিস যাব কি ভাবে। ছুটি ডিক্লেয়ার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কর্মীরই দায়িত্ব হল যেনতেনপ্রকারেন দপ্তরে পৌঁছিয়ে কাজ বন্ধ করাবার জন্যে দরবার করা। তারপর যদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ দেখিয়ে হেডকোয়ার্টার থেকে ছুটি পাওয়া যায় তবে দুর্যোগ আর উপভোগে তফাৎ কতটুকু? এদিকে পাজামা গুটিয়ে বাজারের দিকে একটু এগিয়ে দেখে এলাম চ্যাং-কুড়ি রোডের কাঠের পুলটুকু বাকি আছে বটে, তবে দুপাশের রাস্তা জলমগ্ন। তাকিয়ে দেখি পাশের বাড়ি প্রফেসর রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ির বারান্দায় তিনি প্রফেসার বন্ধু শ্যামলদার সাথে বসে চা খাচ্ছেন। আজ কলেজ ছুটি, ওঁরা জানালেন। 'সে কি, আপনাদের কলেজ তো টিলার উপরে, জলে ডোবার তো কথা নয়' আমি বলি।

- আরে ভাইটি, গরু-বাছুরগুলো না আসতে পারলে আমরা চরাব কাদের?' শ্যামলদা বললেন। প্রসঙ্গতঃ জানাই যে গুরুচরণ কলেজকে ছাত্র-শিক্ষক নির্বিশেষে 'গরু-চরানো' কলেজ বলতেন মজা করে এবং ছাত্রেরা সেটা ঠিক পছন্দ না করলেও অধ্যাপকেরা নিজেদেরকে ব্রজের সেই রাখালরাজার সাথে তুলনা করে যারপরোনাস্তি আনন্দ পেতেন। কিম্বা হয়ত সিলেটিরা স্বভাবতঃই খুব বুদ্ধিমান প্রাণী, অন্ততঃ মানুষের থেকে তো বটেই, তাই কথাটার অসম্ভবতা অনুমান করেই মজা পেতেন। আমি তাঁদের দলে যোগ দেব কিনা ভাবছিলাম, এমন সময় দেখি, অঙ্কের অধ্যাপক যাদব ভট্টাচার্য ধুতিখানা গুটিয়ে সেদিকপানেই আসছেন। তিন ভট্টাচার্যের ত্র্যহস্পর্শ থেকে ত্রিপাদদোষ লেগে যেতে পারে ভেবে আমি আর সেদিকপানে এগোলাম না।
হঠাত মনে হল কেউ যেন গেট খুলছে। তাকিয়ে দেখি আমাদের সহকর্মী গৌরীশংকর দত্ত গুটিগুটি পায় ঘরে ঢুকছে। 'কি রে, তুই এখনও ঘরে বসে', দত্ত আমাকে দেখে হৈ হৈ করে উঠল। 'কেন, তুই কি অফিস যাবার জন্যে নৌকো ভাড়া করে এনেছিস?' আমি জানতে চাই।
- ঠিক ধরেছিস তো! ডিঙ্গি নৌকোটা কাঠের পুলে বেঁধে রেখে এসেছি। সকালে জি-এমের ফোন এসেছে বাড়িওলা মারফত, বন্ধুবান্ধবরা বন্যায় কে কেমন আছে তার খোঁজখবর নেওয়ার জন্যে। তাই বেরিয়ে পড়েছি। তুই তো এখন ঝাড়া হাত পা, চল আমার সাথে।
আমি তো একপায়ে খাড়া। মাকে জানিয়ে ওর সাথে নৌকো করে বেরিয়ে পড়লাম।
প্রথমে কলেজ রোডে আশিস বিশ্বাসের বাড়ি। ঘরের একতলায় জল থৈ থৈ। ও থাকে দোতলায়। মালিক একতলায় ছিল, জল ঢুকতেই তিনিও উঠে পড়েছেন ওপরে। আমরা হাঁক-ডাক করতেই বিশ্বাস দোতলার বারান্দা থেকে মই ঝুলিয়ে দিল, আমরা তাই বেয়ে বাসায় ঢুকলাম। ওর চিন্তা ছিল স্কুটারখানা নিয়ে, গৌরি বলল, 'চ্যাটার্জির বাগানে অন্ততঃ সাতটা স্কুটার দেখে এলাম। চল সেখানেই রেখে আসি, চিন্তা নেই, কোনও ভাড়া লাগবে না'। 'ভাড়া কেন, কুলি খরচও লাগবে না, আমরা আছি তো, শিক্ষিত কুলি', আমি আশ্বস্ত করলাম। তারপর তিনজনে মিলে ধ্বস্তাধস্তি করে স্কুটারকে নৌকোয় চাপিয়ে আমার বাড়িতে নিয়ে এসে রাখা হল।
ফেরার সময় আবার একই পথ ধরলাম। এবার আমরা তিনজন। হঠাৎ খেয়াল হল, নীহারের খবর তো নেওয়া দরকার, ওর জ্বর ছিল দু-তিনদিন ধরে। যদিও ওরা থাকে কলেজের পেছনে টিলার ঢালু অংশটিতে, সেখানে কোনদিনই বন্যা আসবে না। তবু ওরা কেমন আছে খবরটা নেওয়া প্রয়োজন মনে করে আমরা রাস্তার ধারে নৌকো 'পার্ক' করে নীহার ব্যানার্জির বাসার কড়া নাড়ালাম।


 (৩)

নীহার বেরিয়ে এল, মুখে জ্বলন্ত সিগারেট। আমরা ওকে স্মোক করতে কখনো দেখিনি। 'বুলা, তুমি নীহারকে সিগারেট ধরিয়েছ?' গৌরী হাঁক পাড়ল অন্তরালবর্তিনীর উদ্দেশ্যে।
'ওহ্‌, আমার কি ক্ষমতা ওকে কিছু ধরাই বা ছাড়াই! ওর ধারণা একটানা সিগারেট খেলে জল তাড়াতাড়ি নেমে যাবে'- বুলা দেবী এবার সরোষে প্রকট হলেন, হাতে ধূমায়িত কাপের ট্রে।
- আসলে আমার জলে একটা আতঙ্ক আছে...না, না কুকুরের কামড় থেকে নয়, ছোটবেলায় খড়গপুরে দেখা একটা ভয়াবহ বন্যার ঘটনা থেকে। পরের বছরও যদি এরকম দেখি, আমি এখান থেকে ট্রান্সফার নিয়ে চলে যাব- নীহারের বক্তব্য।
আমি ছোটনাগপুরের পাহাড়ি শহরে মানুষ, বর্ষায় তোড়ে জল বয়ে যেতে দেখেছি। সেই সময় সাধারণ অবস্থায় লাফ দিয়ে পার হওয়া যায় এমন এক নালার জলের স্রোতে শুধু মানুষ নয়, আস্ত একটা বাস ভেসে যেতে দেখেছি চোখের সামনে দিয়ে। পুরো ঘটনাটা হৃদয়-বিদারক, তবে এটুকু বলতে পারি যে বাস ড্রাইভার ভাল অঙ্ক জানত না, ভেলোসিটি প্যারালেলোগ্রামের ব্যাপারটা বুঝতে পারেনি। যাক সে কথা। তবু একবার আরেক পাহাড়ি শিল্প-শহর জামসেদপুরের সোনারি অঞ্চলে বন্যা দেখেছিলাম সে কোন ১৯৭৪ সালে। সেও নেহাৎ শহুরে বাবুদের শখ-চরিতার্থের বন্যা। সুবর্ণরেখা-খড়কাই-এর সঙ্গমস্থলে হঠাৎ জল বেড়ে এক কাণ্ড, অপ্রস্তুত গৃহবাসীদের অবাক করে ফ্রীজ-সোফাসেট-আলমারি সব ভাসিয়ে নিয়ে এসেছিল ঘরের বাইরে, সে এক দেখবার মতো দৃশ্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই হুজুগে দর্শনার্থীদের ভীড় লেগে গেল শহরের একপ্রান্তের এই অঞ্চলটিতে। সেই শ্রাবণে অনেকে পৌষমাস দেখে ফেলল, যেমন ফুচকা-অলা, বেলুন-বাঁশীওলা ইত্যাদি। রথ দেখা আর কলা-বেচা একসাথে চলতে থাকল। শুনেছিলাম একটা নাগরদোলাও নাকি এসেছিল, ভেজা মাঠে সাহস করে খুঁটি পুঁততে পারেনি বলে ফিরে যেতে হয়েছিল তাদের!
সেই আমার চোখের সামনে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে জল শুধু জল। আমার তো ভালই লাগছিল দেখতে, জানিনা নীহারের চিত্ত কেন হয়েছে বিকল। ওকে অনেক বলেও বাড়ি থেকে বের করা গেল না। অগত্যা আমরা এবার সৎসঙ্গ আশ্রমের জলপথ ধরলাম, সেখানে আছে দুই গুজরাটি পরিবার, হরিয়ানি আর উকিল। দুজনের নামেরই কোনও ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে। ভরতভাই হরিয়ানির সাথে হরিয়ানার কোনো সম্বন্ধ নেই, আর মিঃ উকিল ছিলেন একজন সিভিল ইঞ্জিনীয়ার। যাই হোক, তাঁরা সপরিবারে ভালই আছেন, গুজুভাইদের বাসায় সর্বদা অন্ততঃ একমাসের চাল-ডাল-নুন-তেল স্টক করাই থাকে, তাই ওদের বিশেষ চিন্তা নেই। তবে ছেলেমেয়েরা কান্নাকাটি করছে, গুজরাটে একসাথে এত জল দেখা যায় না কিনা! আমরা অগত্যা ফিরলাম। এরপর আমাদের গন্তব্য বিবেকানন্দ রোড, স্বপন দাস এণ্ড কোং।


(৪)

শিলচরের বিবেকানন্দ রোড তখন ত্রিশ ফুট চওড়া একটি নদী। একপ্রান্তে রামকৃষ্ণ মিশন রোড ও তারাপুরের দিক থেকে ঢাল নেমেছে, অন্যদিকে অনুকুল ঠাকুরের সত্সঙ্গ আশ্রম রোড আর উত্তরে কলেজ রোড ঢালু হয়ে বিবেকানন্দ রোডের সাথে মিশেছে যে তেমাথায়, সেখানে একটি মাছ-সবজির বাজার বসে। আজ সেখানে বিশ বাঁও জলের আনুকূল্যে আর মরা নয়, জ্যান্ত মাছ ধরছে পাড়ার দুঃসাহসী ছেলেরা। সেখান থেকে নৌকোয় বিবেকানন্দ রোডে ঢুকেই বাঁদিকে প্রথমে পড়ল প্রদীপ মন্ডলের বাড়ি। ওর বিয়ের তখনও বর্ষপূর্তি হয় নি, বলতে গেলে হানিমুন কাপল। ওর বাড়িওলা জানালেন, কাল রাতে জল বাড়তে দেখেই প্রদীপ আজ ভোরে সস্ত্রীক এয়ারপোর্ট রওনা হয়ে গেছে, টিকিট পেলেই সোজা কলকাতা। বেচারা, একটা থ্রিলিং হনিমুন অন এ রিভার ক্রুজের চান্স মিস করলো! তার ওপাশের বাড়িতে থাকে আশিস বসাক। হুজুগে মানুষ, একটু ডাকাডাকি করতেই বৌয়ের গজগজানি কর্ণপাত না করে আমাদের 'বজরা'য় এসে বসল।
উল্টোদিকের একটা গলিতে একতলা বেশ বড় একখানা বাড়িতে স্বপন দাস থাকে বউ-বাচ্চা ও বাবা-মাকে নিয়ে। ওদের বাড়ি গিয়ে দেখি একতলার অর্ধেকের উপর জলের তলায়। ওরা গেল কোথায়? তখনই যেন স্বর্গ থেকে দৈববাণী হলো- 'নৌকোর মুখটা সোজা সিঁড়িঘরে ঢুকিয়ে দে'। ওপরে তাকিয়ে দেখি স্বপন নির্দেশ দিচ্ছে ছাদ থেকে। অগত্যা সেইভাবেই সিঁড়ি ভেঙ্গে ছাদে এলাম।
স্বপনদের ছাদের উপরে এসে দেখি এলাহী কান্ড! তিনখানা তাঁবু পাতা হয়েছে বিশাল ছাদ জুড়ে। তার একটাতে তিন পরিবারের বারোয়ারী রান্না চড়েছে, খিচুড়ি আর ইলিশের ঝাল। পাওয়ার নেই বটে, তবে স্ট্যান্ড-বাই জেনারেটারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশ পিকনিকের মেজাজ।ইতিমধ্যে বাড়িওয়ালার বড়ছেলে সাইকেলে করে গোটা চার-পাঁচ ভিডিও ক্যাসেট নিয়ে এলো, রাতের খোরাক হিসেবে। রিমি আর স্বপন খেয়ে যাবার জন্যে অনুরোধ করছিল বার বার, লোভ যে হয়নি তাও নয়, কিন্তু আমরা তো কেউ একা নই, তাছাড়া বাসায় খবর যে পাঠাব, তখন এমন ঘরে ঘরে ফোন ছিলনা, মোবাইল তো দুরের কথা। অগত্যা সবিনয়ে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হল। মেসোমশাই অবশ্য অন্য একটা লোভ দেখাচ্ছিলেন। আমি থাকলে চারজন পার্টনার হয়ে যেত আর তাহলে বেশ ব্রিজ খেলা যেত খেয়ে-দেয়ে। কদিনের রসদ আর কদিনেরই বা আনন্দ! তবু ওদের মানিয়ে নেওয়া দেখে বেশ ভাল লাগলো। চা আর পকোড়ি খেয়ে ওখান থেকে বিদায় নিলাম।
'আজকের মত অনেক ঘোরা হল', এই বলে গৌরী আমাকে আর বসাককে যথাস্থানে নামিয়ে দিয়ে নৌকো নিয়ে মালুগ্রামে নিজের বাসায় রওনা দিল। আমার বাড়ির উল্টোদিকের দোতলা বিল্ডিংটা হল সরকারী বন্যা-নিয়ন্ত্রণ বিভাগের আঞ্চলিক হেড অফিস। দেখি সেখানে আলোর মালা সাজানো হচ্ছে। ওদের ইলেকট্রিসিয়ান দত্তগুপ্ত তদারকি করছে। জিজ্ঞেস করলাম- 'কি ভাই, আপনাদের এখন পৌষমাস নাকি?' ব্যঙ্গের খোঁচাটুকু মাঠে মারা গেল। উত্তর পেলাম- 'না দাদা, আমরার এনুয়াল ডে হইত আজ সৈন্ধায়, আইয়েন নিশ্চয়'।
এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ অফিসটি বরাক-অববাহিকায় বন্যা প্রতিরোধ ও তত্কালীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছিল কয়েকবছর আগে। কিন্তু দেখা গেল প্র্যাকটিক্যালি সেটি হয়ে দাঁড়িয়েছে 'বন্যা-আমন্ত্রণ বিভাগ' আর সেটা যে অমূলক নয় বন্যার সময় কর্মচারীদের মুখ-চোখের উদ্দীপ্ত ভাব থেকেই তা বোঝা যেত। ৯১-৯৩-৯৪ এর ক্রমবর্ধমান বন্যার থেকে শিক্ষা নিয়ে শুনেছি নাকি ১৯৯৫ সালে এই অফিসটি তুলে দেওয়া হয়। আমি শিলচরের পাট উঠিয়ে বদলি হয়ে পন্ডিচেরি চলে আসি ১৯৯৪-এ। বন্ধুদের মুখে শুনেছি তার পরে নাকি বরাকে তেমন উল্লেখনীয় বন্যা আসেনি- আজ পর্যন্ত !

(শেষ)

Saturday, July 25, 2015

New: Translated rhyme- Bengali to Hindi

New: Translated rhyme- Bengali to Hindi

"मान न मान"
सुकुमार रॉय  

सुनरे भैया गांव में मेरे ऐसा आदमी दीखा,
खाते समय वह दाल-चावल को मुंह के अंदर फेंका।   
सुना है उसे भूख भी लगती दिनभर जो न खाएं,  
आँखें बंद हो अपने आप ही नींद जैसे आये।  
चलते समय दो पैर उसके पड़ते हैं धरती पे, 
आँखों से वह देखता है सब, सुनता है कानों से।
मान न मान, वह सोता है सर सिरहाने पे रखके 
 ऐसा भी होता है क्या भला, चल आते हैं देखके!   

(मेरा अनुवाद, मूल बंगाली से)

"আরে ছি ছি রাম রাম কলকেতা শহরে
লাল ধুতি পরে মুদি তিন হাত বহরে।
মখমলে জামা গায় ঝকঝকে টোপরে,
খায় দায় গান গায় রাস্তার ওপরে।"

(সুকুমার রায়)


अरे छी छी राम राम का कहूँ रे भैया
कोलकाता जाके देखा हमार रमैया ।
मख़मली लाल धोती-कुर्ता टोपी सर पे
खाए-पिए-नाचे-गाये सड़कवा के मोड़ पे!


"কহ ভাই কহরে, আঁকাচোরা শহরে
বদ্যিরা কেন কেউ আলুভাতে খায় না?
লেখা আছে কাগজে, আলু খেলে মগজে
ঘিলু যায় ভেস্তিয়ে, বুদ্ধি গজায় না।"
(সুকুমার রায়)


जानते हो मेरे भाई, जाके देखा मुंबई
वहां के हकीम कोई आलू नहीं खाता है!
लिखा है किताबों में, आलू से खोपड़ी में
दिमाग न उपजे रे, भेजा सुख जाता है ।



क्या कहूं मैं गया था हुगली
किसी से ना यह कहना,
दीखा मुझे तीन ऐसे सूअर
टोपी न किसीने पहना!



खामखा कुत्ते क्यों चिल्लाएं रात भर-
दांत के कीड़े रहे न टूटे दांत पर?
किसकी गलती से है पृथ्वी के दबे सर?
चल यार सोचते हैं छाओं में बैठकर !
(सुकुमार रॉय)
Original in Bengali:
'কেন সব কুকুরগুলো খামখা চেঁচায় রাতে-
কেন বল দাঁতের পোকা থাকেনা ফোক্‌লা দাঁতে?
পৃথিবীর চ্যাপ্টা মাথা কেন, সে কাদের দোষে?
এসো ভাই চিন্তা করি দুজনে ছায়ায় বসে ।'


पता क्या कह गया सीताराम मेहता-
आसमाँ मंहके जैसा खट्टा सा रायता ।
खटाई रहती नहीं, होने पर वर्षा,
चखकर देखा तब मीठा शक्कर सा ।


ए बकरी का बच्चा,
तू उडने काहे को चला?
पंख कहाँ रे तेरे -
कूदता-फिरता क्यों भला !


नन्द घोष की काली गाय भाग के गयी कहाँ-
गाँव-मुहल्ला नन्द घूमे, खोजता सारा जहाँ।
आधी रात को बेखबर
लौट अधमरा सा थककर,
अपने आंगन पहुँचके देखा गाय सोयी है वहाँ।


आसमान में सात रंगों के इन्द्रधनुष खिले बेजोड़
कितने लोग देखने को आये सारे काम काज को छोड़.
एक था बुड्ढा भला किसीका न देखे वह आदत से-
कहने लगा- 'रंग कच्चा है, टिकाऊ नहीं, पूछो मुझसे!'

जंगला गांव का पगला बुड्ढा मुझसे आकर उलझे,
ढाई बिघाभर समुन्दर में कटहल कितने उपजे?
मैंने भी कहा उसी अंदाज़ में सच कहूँ मैं कितने-
एक एकड़ मूली के खेत में झींगा फले हैं जितने।

आंगन में रक्खा था डब्बा, खीर था उसमें पड़ा,
कौए ने उसके लिए बूढे से जोर का लड़ा। 
जीत लड़ाई खुशी से कौए ने मुड़कर देखा क्या-
जाने कब खीर साफ कर गयी छोटी सी एक चिड़िया।   

बुड्ढे तुम हो आदमी अच्छे,
दिल से भी लगते हो सच्चे,
फिर भी क्यों तुम मुझे पसन्द आते नहीं?
कारण इसका मुझे क्या पता
सोचूं भी तो समझ न आता 
वजह न कोई तो भी दिल भाते नहीं।

Friday, July 24, 2015

Translation- Bengali to Hindi

"কহ ভাই কহরে, আঁকাচোরা শহরে
বদ্যিরা কেন কেউ আলুভাতে খায় না?
লেখা আছে কাগজে, আলু খেলে মগজে
ঘিলু যায় ভেস্তিয়ে, বুদ্ধি গজায় না।"
(সুকুমার রায়)


जानते हो मेरे भाई, जाके देखा मुंबई
वहां के हकीम कोई आलू नहीं खाता है!
लिखा है किताबों में, आलू से खोपड़ी में
दिमाग न उपजे रे, भेजा सुख जाता है ।

(सुकुमाय रॉय)

"আরে ছি ছি রাম রাম কলকেতা শহরে
লাল ধুতি পরে মুদি তিন হাত বহরে।
মখমলে জামা গায় ঝকঝকে টোপরে,
খায় দায় গান গায় রাস্তার ওপরে।"

(সুকুমার রায়)


अरे छी छी राम राम का कहूँ रे भैया
कलकत्ते में जाके देखा हमार रमैया ।
लाल धोती मलमल के कुर्ता-टोपी डालकर
खाए-पिए-नाचे-गाये सड़कवा के मोड़ पर !



Tuesday, July 14, 2015

Bengali Short Story- কুবের, কন্দর্প ও কোয়টাস ।।

কুবের, কন্দর্প ও কোয়টাস ।।

(১)

'কোয়টাস !!'
কথাটা শুনে একটু অস্বস্তি নিয়ে ভ্রূ কুঁচকে তাকান সুন্দরমূর্তি। হ্যাঁ, ইনি সেই বিখ্যাত টেকনোসিস কোম্পানির মালিক ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মি: সুন্দরমূর্তি আয়ারই বটেন। কথা হচ্ছিল তাঁর সফটওয়ের বিভাগের মাথা দুর্দান্ত প্রতিভাবান হ্যান্ডসাম যুবক অনঙ্গ দেশাইয়ের সাথে। ছেলেটিকে তিনি খুবই পছন্দ করেন। এই বয়েসেই যা সব ইনোভেটিভ গ্যাজেট তৈরী করে দুনিয়ার মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে, তাতে তিনি অনঙ্গকে তাঁর কোম্পানির আদর্শ উত্তরাধিকারী রূপে ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। অপুত্রক ও বিপত্নীক তিনি। নিজের বলতে একমাত্র কন্যা মালিনী। তিনি তো অনঙ্গকে বেশ কয়েকদিন ধরে চোখে চোখে রাখছেন, এখন তাঁর মেয়েটির এদিকে একটু নজর পড়তেই যা বাকি।

না, মেয়ে তাঁর পাগল বা কুরূপা নয়। টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে রীতিমত পড়াশুনা করে এসেছে আমেরিকা থেকে। এখন বাবার সাথে অফিসে বসে হাতে-কলমে কাজ শিখছে। আয়ার সাহেবের ইচ্ছে আছে মেয়ের বিয়ে দিয়ে মেয়ে জামাইকে একত্রে নিজের কোম্পানির দায়িত্ব ধরিয়ে দেন। কিন্তু মেয়ে তার কথায় আমল দিলে তো! তার নেশা মোবাইলে বসে শুধু বন্ধুদের সাথে হোয়াটস-অ্যাপ বা গুগলে চ্যাট করা। তাই বলে ভাববেন না যে সে তাদের কারো সাথে প্রেম করে। মালিনী হয়ত তার অর্ধেক বন্ধুর দিকে মুখ তুলে তাকায়ইনি কখনো। তাই এই মা-মরা মেয়েটিকে নিয়ে মি: আয়ারের চিন্তা হওয়ারই কথা। তবে এই অনঙ্গ ছেলেটিকে তিনি ছাড়তে রাজী নন। আপাত নির্লোভ আর সচ্চরিত্র হলেও যে কোনও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার হিম্মত আছে অনঙ্গের। তাই অর্ধেক রাজত্ব আর রাজকন্যা জয়ের একটা চ্যালেঞ্জের আভাস দিয়ে তাকে আটকে রেখেছেন কোনমতে, নইলে বিদেশী কোম্পানিগুলো তো ওকে লোফার জন্যে হাত উঁচু করেই আছে। তাই কিছুটা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়েই জানুয়ারি মাসের এক সুন্দর সকালে অনঙ্গকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তাঁর অফিসে মেয়ের ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করতে। কিন্তু হবু জামাই যে প্রথমেই 'কোয়টাস' বা যৌন-সঙ্গম জাতীয় কিছু একটা বলে বসবে সেকথা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি।

'স্যার, আপনি যা ভাবছেন তা নয়', মিঃ আয়ারকে ভ্যাবাচ্যাকা খেতে দেখে এবার অনঙ্গের ব্যাখ্যা করার পালা, 'কোয়টাস একটা এপ্লিকেশন সফটওয়্যার, যার পুরো নাম 'ক্লোজার অফ ইন্টারনেট টেলিকম ইউজার্স সফটওয়্যারস' (Closure Of Internet Telecom Users' Softwares), যা বিশেষ ধরনের স্মার্ট ফোনের সাহায্যে ব্যবহার করা যায়। প্লিজ, এ ব্যাপারে এখন আর কিছু জানতে চাইবেন না, এখন এটা এক্সপেরিমেন্টাল স্টেজে আছে'।
'তবু ব্যাপারটা কি একটু বলবে তো, না কি নিজস্ব পেটেন্ট নিতে চাইছ?' একটু রসিকতার ছলেই বললেন আয়ার। তাঁর বিশ্বাস আছে ছেলেটির উপর।
'স্যার, এই টেকনোলজির যুগে মানুষ যে স্বাভাবিক প্রবৃত্তিগুলো হারিয়ে ফেলতে বসেছে- যার জন্যে আজ পৃথিবীর বড় বড় শহরগুলোর জনসংখ্যা কমতে কমতে এলার্মিং অবস্থায় ঠেকেছে এসে, তার বিরুদ্ধে কাজ করবে এই অ্যাপ। এবার আপনি শুধু বলুন, মিস মালিনী সম্বন্ধে আপনার প্ল্যানটা কি? বাকি কাজটুকু আমার উপর ছেড়ে দিন।'

'দাঁড়াও, একটু ভাবা দরকার। তুমি বরং লাঞ্চের পর একবার এস।'

অনঙ্গ চলে গেলে এসি বন্ধ করে অফিসের জানালাটা খুলে দিলেন মিঃ আয়ার। অন্য আইটি ও কম্প্যুটার কোম্পানীগুলোর থেকে কিছুটা তফাৎ রেখেই বছর দশেক আগে এখানে হেড অফিস বানিয়েছিলেন তিনি, তখন শহরের প্রায় বাইরে ইয়ালাহাঙ্কাতে। স্যাটেলাইট টাউনশিপের ৩ নং ক্রশ রোডের এই অফিসের জানালায় দাঁড়ালে দেখা যায় নয় নম্বর জাতীয় সড়ক আর নিউ টাউন মেন রোডের শৃঙ্খলাবদ্ধ গাড়ির মিছিল, গ্রেটার বাঙ্গালোর ম্যুনিসিপাল কর্পোরেশনের তত্বাবধানে যার মধ্যে কোন ত্রুটি পাওয়াই ভার। যার ফলে তিনি মাল্লেশ্বরমে নিজের বাড়ি যাবার জন্যে নয় নম্বর হাইওয়ে না ধরে এ পথেই যাওয়া আসা করেন। নতুন এয়ারপোর্টটাও কাছে পড়ে। এখন ত পুরনো আই-টি পার্কের মালিকরা রীতিমত হিংসে করে তাঁকে আর মনে মনে তারিফ করে দূরদর্শিতার জন্যে। তবে মিঃ আয়ার জানেন যে হেড অফিসের অবস্থানের সাথে কোম্পানীর উন্নতির কোনও সম্বন্ধ নেই, তার জন্যে অনং নামের এই রত্নটিকে বেঁধে রাখতে হবে। কিন্ত কিভাবে? জানলার বাইরে তিন নম্বর ক্রস রোডে কি আছে এই সমস্যার সমাধান? তিনি চিন্তিতমনে মোবাইলে একের পর এক নম্বর ডায়াল করতে লাগলেন। তারপর একসময় টিফিন বাক্স বের করে হাল্কা লাঞ্চ সেরে নিলেন।

 
লাঞ্চ আওয়ারের পর অনঙ্গ এল দেখা করতে। তবে তারপর প্রায় আধঘন্টা ধরে ইয়ালাহাঙ্কার অফিসে বসে বাঙ্গালুরু সিলিকন সাম্রাজ্যের একজন অধীশ্বর আর তাঁর কোম্পানির 'মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলার'এর মধ্যে কি কথা হল তা আমরা কেউ কিছুই জানতে পারলাম না।



(২)

১৪ই ফেব্রুয়ারির বিকেল পাঁচটায় মি: আয়ার মেয়েকে নিজের অফিসঘরে ডেকে বললেন, 'মা, আমি আজ ইউনিয়ানের মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকব, ফিরতে অনেক রাত্রি হবে। তুই বরং অনঙ্গের সাথে অফিসের গাড়িটাতে করে চলে যা, ওকে মাল্লেশ্বরমে ড্রপ করে দিস। মেয়ে বাবাকে চেনে, তাই আর কোনো কথা না বলে ধীরে ধীরে চলে গেল অনঙ্গের অফিসের দিকে।

সাড়ে পাঁচটায় অফিস থেকে ওরা দুজনে বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে বাইরে আসতেই দেখে তিন নম্বর ক্রস রোড থেকে নিউ টাউন মেন রোডের রাস্তায় সবকটা গাড়ি সার বেঁধে দাঁড়িয়ে। সাধারণত: এ সময়টা একটু জ্যাম হয়, তা বলে এত। গাড়ি তো গেট ছেড়ে নড়তেই পারছে না। বাঁদিকে ঘুরতে পারলে একটা না একটা রেডিয়াল রোড অনায়াসে ধরা যায়, কিন্তু গাড়ি এগোলে তো! ড্রাইভার যথেষ্ট অভিজ্ঞ, সে পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয় স্যার, এখন ঘন্টা দুই মনে হচ্ছে বাঁদিকে এগোনো যাবে না, চলুন বরং ডানদিকে ঘুরে হাইওয়ে ধরি। কিন্তু সেখানেও বিপদ। শেষাদ্রিপুরম কলেজের কাছে এসে আর গাড়ি এগোয় না, এত ট্র্যাফিক। শেষে যেন কিছুটা নিরুপায় হয়েই অনঙ্গ বলল, 'ম্যাম, এখন আর গাড়িতে বসে কি হবে, চলুন সামনের সি-সি-ডি'তে গিয়ে ততক্ষণ আসল কলোম্বিয়ান কফির স্বাদ নিয়ে আসি'। 'চলুন', অনিচ্ছাসত্ত্বেই বলল মালিনী, তার চোখ তখনও মোবাইলের দিকে।

ওরা দুজনে কাফেতে গিয়ে বসেই আছে, যেন একে অপরকে চেনেই না। মালিনী নিবিষ্টমনে ফোন নিয়ে হোয়াটস-অ্যাপে চ্যাট করছে আর অনঙ্গ ওকে একমনে দেখে যাচ্ছে। ইস, এমনিভাবে যদি মালিনী ওকে দেখত! কনভেন্ট পড়া মেয়ে, নিশ্চয়ই অনঙ্গ কথাটার মানে জানে না। হঠাৎ কি খেয়াল হওয়ায় নিজের স্মার্টফোন বের করলো অনঙ্গ। 'এ কি এসময় নেট চলে গেল যে' - অবাক হয়ে বলল মালিনী। 'আমার তো সাবস্ক্রাইবার কানেকশন, সিটি ওয়াই-ফাই তো নয়!'
'আপনি বসুন, ম্যাম, আমি দেখছি, এদের ওয়াই-ফাই আছে কিনা', বলে উঠল অনঙ্গ।
'আপনি বসুন তো', এতক্ষণে বোধহয় মুখ তুলে তাকাল মালিনী অনঙ্গের দিকে। আরে, বেশ হ্যান্ডসাম ছেলেটি তো, নম্র, ভদ্রও বটে। 'কি ম্যাম ম্যাম করছেন তখন থেকে? আমার নাম মালিনী, আমি আপনার থেকে অনেক ছোট। এত তাড়া কিসের, নাহয় কিছুক্ষণ গল্পই করলে আমার সাথে', হাত ধরে টেনে ওকে আবার চেয়ারে বসিয়ে দিল মালিনী। তারপরে ঘণ্টা দুয়েক যে কিভাবে কোথা থেকে কেটে গেল, কেউই তা টের পেল না। একে ত জেট-সাইবার যুগের ছেলেমেয়ে, তার উপরে ভ্যালেন্টাইনের সন্ধ্যা, কখন, কোথায়, কি হয়ে যায় তা কে জানে। রবি ঠাকুরের আমলে এই দিনটি থাকলে মনের কথাটি তারে বলার জন্যে আর ঘনঘোর বরষার অপেক্ষা না করলেও চলত।

পরদিন সকাল সকাল মিঃ আয়ারের চেম্বারে অনঙ্গ, সঙ্গে মালিনী, এই প্রথম একসাথে। 'স্যার, কনগ্রাচুলেট মি, স্যরি, মানে আমাদের দুজনকেই আশীর্বাদ করুন। আমরা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আদর্শে দীক্ষা নিয়েছি গতকাল'। অনঙ্গ বলল । 'বাকি কাজটা এবার আপনার হাতে'। আনন্দ ও বেদনার যুগপৎ অনুভবে মিঃ আয়ারের মন ভরে উঠল। তিনি উঠে দাঁড়ালেন চেয়ার থেকে।
'আমি আজ দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী বাবা', মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন মি: সুন্দরমূর্তি আয়ার। একফাঁকে একটু চোখ টিপে দিলেন অনঙ্গের দিকে তাকিয়ে।

ওরা দুজনে চলে গেল। এখন অনেক কাজ মি: আয়ারের। চিন্তা কি ছিল না! রেডিয়াল আর ক্রশ রোডের নেটওয়ার্ক দিয়ে ইয়েলাহাঙ্কা সার্কেলের প্ল্যানটাই এমনভাবে করেছে বাঙ্গালুরু কর্পোরেশন যে বিজিয়েস্ট আওয়ারেও কখনো জ্যাম হয় না। কাল সেটাও সম্ভব হয়েছে। সুতরাং আয়ার সাহেবের প্রথম কাজ হল ডি সি ট্রাফিকের বাসায় অন্তত: পাঁচলাখ টাকার একটা তোফা পাঠান- অবশ্যই অতি গোপনে, গতকাল তিন নম্বরের মুখ থেকে সবকটা ট্রাফিক পুলিশকে ঠিক সময়ে ঘন্টা তিনেকের জন্যে তুলে নেবার জন্যে। তারপর ক্যাফে কফি ডে'র ম্যানেজারকে হাজার দশেক, সার্ভিং-এ দেরী করানোর জন্যে। ড্রাইভারকে তার সুন্দর অভিনয়ের জন্যে একটা স্পেশ্যাল বোনাস দেওয়া যেতেই পারে, ব্যাটা এক্সপার্ট হয়েও বলে কিনা এগোনো যাবে না হুজুর!

আর অনঙ্গকে- তার 'কোয়টাস' এর জন্যে? তা আর বলতে! সে ছোঁড়াই তো সবচেয়ে বড় দাঁওখানা মারলো। তাহলে কুবের আর কন্দর্পের খেলায় জিতল কে? ছি ছি, জিতল কিনা একটা সফটওয়ার, যার কোনও ভূমিকা থাকারই কথা নয় এখানে!

Kuwait, 13th April, 2015.